1. admin@voiceofnaogaon.com : admin :
বরকলে সুপারভাইজার ফারুখ কতৃক তামাক বিক্রির নামে অর্ধকোটি টাকার চাঁদাবাজির - ভয়স অফ নওগাঁ
মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ১১:৩৭ পূর্বাহ্ন
প্রধান খবর
ঈদের শুভেচ্ছা ও সতর্কতা জানিয়েছেন জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার শাহ্ ইফতেখার আহমেদ আহমেদ পিপিএম (বার) নবনির্বাচিত ভাইস-চেয়ারম্যান পপি’র বিরুদ্ধে অপপ্রচার নওগাঁ ব্লাড সার্কেলের বিশ্ব রক্তদাতা দিবস উদযাপন রির্জাভের গাছ চোরকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ কুষ্টিয়া শহরের পুরাতন আলফা মোড় এলাকায় সন্ত্রাসী হামলায় একজন গুরুতর আহত সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি নওগাঁয় নেশাগ্রস্ত হয়ে বাড়ি ফেরায় ছেলের লাঠির আঘাতে প্রাণ গেলো বাবার কারিতাসের উদ্যোগে শিশুদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য মিডিয়া এ্যাডভোকেসী ৪০ শতাংশ জমিতে ওলকচু চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন কৃষক আবু বক্কর সিদ্দিক বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের জেসিএমএস বিভাগের শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ সমাপনী প্রেজেন্টেশন অনুষ্ঠিত শেখ হাসিনা’র কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে স্বেচ্ছাসেবক লীগের আলোচনা সভা, দোয়া, মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত

বরকলে সুপারভাইজার ফারুখ কতৃক তামাক বিক্রির নামে অর্ধকোটি টাকার চাঁদাবাজির

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৪

আরিফুল ইসলাম সিকদার

রাঙামাটির বরকল উপজেলাতে তামাক বিক্রির নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে।উক্ত অভিযোগ সম্পর্কে স্থানীয় তামাক চাষীরা জানান, তামাক বিক্রির নামে প্রতিবছরই বাড়ছে চাঁদাবাজির পরিমান। তারা বলেন,গতবছর মাঠপর্যায়ে কাজ করা সুপারভাইজার মো: ফারুক এবং লেবার সর্দার আবুল এরা দুইজন তামাক চাষে জড়িত চাষীদের জিম্মি করে আঞ্চলিক দল ও পুলিশের নাম ভাঙিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা চাদা আদায় করেছে,গতবছরের মত এবছর অনেক তামাক চাষীর থেকে চাদা নেয়া হয়েছে বলে তারা জানান।

চাষীদের থেকে টাকা আদায়ের ক্ষেত্রেও এদের রয়েছে বিশেষ কৌশল।তারা চাদার পরিমান নির্ধারণ করে দিলেও সরাসরি টাকা নিজেরা নেয় না।তাদের হয়ে এই টাকা কালেকশ করেন লংগদু উপজেলার মাইনীঘাটের লেবার সর্দার আবুল।বরকল এলাকায় উৎপন্ন তামাক বিক্রির জন্য ট্রলার যোগে নৌপথে লংগদু উপজেলার মাইনীঘাটে লেবারদের মাধ্যমে উক্ত মাল ট্রাকে পরিবহন করে খাগড়াছড়ির কোবাখালিতে বিক্রির উদ্দেশ্যে নেয়া হয়।এই কোবাখালি ও বরকলের মধ্যবর্তী মাইনীঘাটেই উত্তোলন করা হয় উক্ত চাদা।এছাড়াও বর্তমানে বরকল উপজেলার আইমাছড়া ইউনিয়নের কলাবুনিয়া বাজারে পার্শ্ববর্তী বাঙ্গালটিলাতেও চলছে চাদা কালেকশনের কাজ।

চাদা পরিশোধ না করা পর্যন্ত কোন তামাক চাষীর মাল কোন শ্রমিক আনলোড করে ট্রাকে তুলেন না।তাই অনেকটা বাধ্য হয়েই প্রতিটা চাষীকে উক্ত চাদা দিতেই হয়।কোন চাষী যদি প্রচলিত নিয়ম না মেনে অন্যকোন উপায় অবলম্বন করতে চায় তাহলে কোবাখালিতে পৌছার পর উক্ত চাষীর নিয়ে যাওয়া পন্য রিজেক্ট করে দেয়া হয়।আর সেই রিজেক্ট করা মাল কোম্পানি ক্রয় না করায় চাষী সর্বস্বান্ত হয়ে যায়।

চাষীরা আর বলেন,এই সিন্ডিকেট ইচ্ছে করেই ওখানকার কিছু কর্মচারীদের হাত করে অনেক চাষীর সম্পুর্ন মাল রিজেক্ট করায়।পরবর্তীতে সেইসব মাল চাষীরা ফেলে আসলে তারা তা পুনরায় বিক্রি করে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়।এভাবে অত্র উপজেলার অনেক চাষী ঋণগ্রস্ত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে দেখা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে সুপারভাইজার ফারুক মুঠোফোনে কথা করে জানাগেছে,তিনি টাকা নেওয়ার বিষয়ে অবগত নন,কে বা কারা এই কাজ করেন তিনি অবগত নন,এই অভিযোগ তিনি ভিত্তিহীন বলে জানান।তবে লেবার সর্দার আবুলের টাকা উত্তোলনের বিষয়টা তিনি স্বীকার করেন।

অন‍্যদিকে শ্রমিক সর্দার আবুল জানান তারা মাইনি ঘাট থেকে তামাক আনলোড করে ট্রাক বা পরিবহনে লোড বা বোঝাই করার পারিশ্রমিক হিসেবে সর্বোচ্চ ৫৫টাকা নিয়েছেন। তিনি অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করেন।

এই বিষয়ে বরকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফোরকান অনুপম এলাহী জানান,তামাকচাষে সরকার কৃষকদের বারবার নিরোৎসাহী করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।এই চাষে পরিবেশ ও কৃষি জমির ব্যাপক ক্ষতি সাধন হয়।চাঁদাবাজির বিষয়ে কৃষকদের অভিযোগ পেলে যথাযত ব্যাবস্থা নিবেন বলে জানিয়েছেন।

একটি জরিপে দেখা গেছে,বরকলের নিচু জমিগুলোতে চাষযোগ্য জমির ৮৫.৫৬ শতাংশ জমিই তামাকের দখলে।দিন দিন এই চাষের প্রবনতা আরো বাড়ছে।সেই সাথে উজার হচ্ছে বন।কারন তামাক পাতা প্রক্রিয়াজাত করার জন্য চুল্লির কাঁচামাল হিসেবে প্রতিছর কয়েক লক্ষটন কাঠ পুড়িয়ে ধ্বংস হচ্ছে এসব এলাকার বন।এই কাঠের জন্যেও চুলা প্রতি ৩০০ টাকা করে চাদা দিয়েছে চাষীরা,বরকলে বর্তমানে ভুষনছড়া ইউনিয়ন , আইমাছড়া ইউনিয়ন ও বরকল সদর ইউনিয়নের কুরকটিছড়ি ও সুবলং ইউনিয়নের কিছু এলাকাতে চলছে এই তামাক চাষ।

এবিষয়ে স্থানীয় জনসাধারণের দাবী তামাক চাষ ও চাদাবাজি বন্ধে প্রশাসনকে এগিয়ে আসা অতিব জরুরী।দেখা গেছে তামাকপাতা পোড়ার একমাত্র কাঁচামাল হিসেবে কাঠ বা লাকড়ি কাটার নামে বনউজাড় হচ্ছে।

অন‍্যদীকে সুশীল সমাজ বলছেন,বরকলে তমাক চাষের বিকল্প হিসেবে সূর্যমূখী,ধান,ভূট্টা,গম,স্ট্রবেরি চাষ করতে কৃষকদের আগ্রহী করতে হবে।উপজেলা ও জেলা কৃষি অফিস সহযোগিতা করলে ঐ অঞ্চলের তামাকের বিকল্প কৃষি উপৎপাদন বাড়বে।

রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী স্বাস্থ্যহানিকর ভেষজ দ্রব্যের ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে র ১৮(ক) ধারায় দেশের ভবিষ্যৎ ও বর্তমান নাগরিকের জন্য পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন, প্রাকৃতিক সম্পদ, জীববৈচিত্র্য, জলাভূমি, বন ও বন্যপ্রাণীর সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধানের রাষ্ট্রের দায়িত্বের কথা উল্লেখ রয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় তামাক চাষ বন্ধে কার্যকর ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে রাষ্ট্রের কোনো বাধা নেই।

অন‍্যদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালে সাউথ এশিয়ান স্পিকার্স কনফারেন্সে আগামী ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে তামাকমুক্ত করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় নিবন্ধনের প্রক্রিয়াধীন।
Powered by: Nfly IT